সেনবাগে বসতবাড়ীর পথ বন্ধ করে দেয়ায় গৃহবন্দী অবস্থায় ১৫ পরিবারের শতাধিক মানুষ

রফিকুল ইসলাম সুমন (নোয়াখালী)

নোয়াখালীর সেনবাগে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও  প্রশাসনের কর্মকর্তাগনের আদেশ ও অনুরোধকে অমান্য করে, বসত বাড়ির যাতায়াতের রাস্তায় ইটের দেয়াল নির্মাণ করে ১৫ টি পরিবারের প্রায় শতাধিক মানুষকে  একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে সোহরাব হোসেন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

সরজমিনে গেলে দেখা যায়, উপজেলার ৬নং কাবিলপুর ইউনিয়নের কল্যান্দী বাজার সংলগ্ন, দক্ষিণ সাহাপুরে (রহিম উদ্দিন ভূঁইয়া বাড়িতে) দীর্ঘ ২’শ বছরের অধিক সময় যাবত, পূর্ব পুরুষরা বসবাস করা বাড়িতে মোঃ আমির হোসেন, আবদুল হক, মোঃ চৌধুরী, মোঃ বাবলু, আবদুল কাদের , আবুল হোসেন, মোঃ স্বপন , মোঃ  মাছুম, বাবর ও বেলাল সহ ছোট বড় মোট ১৫টি পরিবারের বসত বাড়ির চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে, উক্ত জায়গায় ইটের দেয়াল নির্মাণ করে  প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায়, শতাধিক মানুষকে গৃহবন্দী ও একঘরে করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একই বাড়ির মৃত আবদুল মজিদ এর পুত্র মোঃ সোহরাব হোসেনের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়,প্রতিহিংসা ও কলহ বিবাদের জের ধরেই সোহরাব হোসেন গত তিন মাস আগে বসত বাড়ির চলাচলের রাস্তায় বাঁশ ও ইটের দেয়াল নির্মাণ করে, ভুক্তভোগীদের হাঁটা চলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে স্থানীয় গন্যমান্যদের উপস্থিতিতে পথের জায়গার মুলা বাবদ ভুক্তভোগীদের নিকট ১ লক্ষ টাকা দাবি করেন সোহরাব । এসময় ভুক্তভোগীরা ১ লক্ষ টাকা প্রদান করিতে রাজি হলে ও সোহরাব হোসেন তা পরক্ষনেই অস্বীকার করেন এবং উক্ত পথের জায়গায় বাথরুমের টাংকি নির্মাণ করেন।এমন বেহাল দশায় ১৫ টি পরিবারের প্রায় শতাধিক মানুষ একঘরে ও গৃহবন্দি হয়ে পড়ে।

বর্তমানে কেউ মারা গেলে কবরস্থানে নেওয়ার পথ নেই এবং কেউ অসুস্থ হলে রোগীকে হাসপাতাল নেয়ার জন্য বাড়ীতে কোন  রিক্সা, সিএনজি কিংবা এ্যাম্বুলেন্স নেয়ার রাস্তা নেই। নিজ বাড়ীর চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়ায়, বর্তমানে অসহায় পরিবারের সদস্যগুলো প্রতিবেশীদের ফসলী জমির  উপর প্রায় ৮০০ গজ পথ পায়ে হেঁটে পাকা সড়কে উঠতে হয়। কিন্তু বর্ষাকালে এই ফসলী জমিগুলো গলাপানিতে নিমজ্জিত থাকে। ঐসময় ভুক্তভোগীরা পুরোপুরিই গৃহবন্দী হয়ে পড়বে। এমন মানবিক আকুতি ও ভুক্তভোগীদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেখানে সরজমিনে ছুটে গিয়েছেন,স্থানীয় ও উপজেলার অনেক  গন্যমান্য নেতৃবৃন্দগন,ওয়ার্ড  মেম্বার কামাল উদ্দিন, ৬ নং কাবিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বাহার, ও সর্বশেষ সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম মজুমদার।

উনারা সকলেই  মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে,বসত বাড়ির চলাচলের রাস্তায় দেয়া বাঁশের বেড়া ও ইটের দেয়াল সরিয়ে দেয়ার জন্য সোহরাবকে আদেশ ও  অনুরোধ করার পরে ও সোহরাব হোসেন তাতে কোন  সাড়া দেননি।

বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো উক্ত সমষ্যা সমাধানের লক্ষ্যে দৃষ্টি আকর্ষণ ও আবেদন জানিয়ে, নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও  নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নিকট লিখিত আবেদন  দাখিল করে। কিন্তু অদ্যাবধি পর্যন্ত চলাচলের রাস্তার  কোন ব্যবস্থা না হওয়ায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে তারা। তাই  মানবিকতাকে প্রাধান্য দিয়ে, উক্ত গৃহবন্দী ১৫ টি পরিবারের শতাধিক অসহায় মানুষের  চলাচলের রাস্তার ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশা করছে ভুক্তভোগী পরিবার গুলো ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

535 total views, 1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lost Password?