বরাদ্ধ ছাড়াও শতভাগ উৎসব ভাতা শুরু করা সম্ভব

 নিজস্ব প্রতিবেদক:
২০০৪ সালে যখন প্রথম এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারিদের যথাক্রমে ২৫% ও ৫০% উৎসব ভাতা চালু করেছিল তখন বাজেটের কোনো বরাদ্ধ ছাড়াই এমপিও বাবদ বিতরণকৃত টাকার অবশিষ্ট টাকা থেকে দেয়া শুরু করেছিল৷ পরবর্তিতে এটি বাজেটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে আসছে৷ বর্তমানেও সরকারের সদিচ্ছা থাকলে উৎসব ভাতা শতভাগে উন্নীত করা সম্ভব৷ বর্তমানে শূণ্য পদের সংখ্যা প্রায় ৫৪ হাজার৷ নবসৃষ্ট একটি পদ বাদ দিলে বিগত তিন বছর যাবত প্রায় ২৫-৩০ হাজার শিক্ষকের পদ শূণ্য রয়েছে৷ কিন্তু এ পদগুলোর জন্য কি সরকার এমপিও বাবদ প্রতি বছরই বরাদ্ধ রাখে নাই? যদি রেখে থাকে তাহলে শূণ্যপদের বিতরণ ব্যতীত টাকাগুলো কোথায়? উৎসব ভাতা তো প্রথম সে টাকা থেকেই শুরু করা হয়েছিল৷ তাহলে এখন সে টাকা দিয়ে শতভাগর উন্নীত করা যাবে না কেন? এমন কোনো উপজেলা নেই যেখানে একাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান, সহকারী প্রধানসহ অন্যান্য শিক্ষকদের পদ খালি নাই৷ একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানের বার্ষিক বরাদ্ধকৃত বিতরণহীন টাকা দিয়ে ৩-৪টি প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকদেরকে অবশিষ্ট উৎসব ভাতা দেয়া সম্ভব৷ একটা উদাহরণ দেই৷ একজন প্রধান শিক্ষকের প্রতি বর্তমানে এমপিও বাবদ প্রতিমাসে বরাদ্ধ ৩৫হাজার ৮০টাকা৷ বছরে মোট অংক দাড়ায় ৪ লাখ ২০ হাজার ৯শত ৬০টাকা৷ আরো আছে ২৫% এর দুইটি বোনাস ও ২০% বৈশাখী ভাতা৷ এটাকাগুলো এমপিও কপিতে প্রতি মাসেই আসছে৷ বছর শেষে ফেরতও যাচ্ছে৷ সারা দেশে হাজার হাজার শুণ্যপদের বরাদ্ধকৃত টাকাগুলো যাচ্ছে কোথায়? তাছাড়াও গত এক বছরের বিভিন্ন প্রকল্পের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের টাকাগুলো কোথায়? বিগত ১৭ বছর যাবত বেসরকারি শিক্ষকদের শতভাগ উৎসব ভাতার দাবীতে ঈদ সামনে আসলেই নতজানু ও তোষামোদি মার্কা আন্দোলনের কর্মসূচী দিয়ে আসছে ৬৩টি সংগঠনের কয়েকটি! কখনো একক, কখনো যৌথ৷ কিন্তু সরকারের কোনো টনক নড়ছে না৷ হয়ত সরকারকে বুঝাতে অক্ষম নয়ত সরকার জানে যে আন্দোলনকারীদের মেরুদন্ড বাঁকা! কারণ ১৬ সংগঠনের ফ্রন্টে ১৪ সংগঠনের কমিটি নাই৷ এক নেতা, এক সংগঠন! তাই বর্তমানে সকল সংগঠন এক হয়ে উক্ত বিষয়টি সরকারের উর্ধ্বতন মহলে পেশ করার জন্য অনুরোধ রইল৷

257 total views, 3 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lost Password?