দ্বন্দ্ব কি পদ পদবির, নাকি অর্থ ভাগাভাগির?

 
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আমি একজন শিক্ষক হিসেবে লিখতে লজ্জাবোধ করছি, কিন্তু পাবলিক প্লেসে নেতারা একে অপরের বিরোদ্ধে দোষারোপ করে পুরো জাতির সামনে সে লজ্জাকে ভুলুন্ঠিত করেছেন৷ এখন ব্যাপারটা দাঁড়িয়েছে A beggar has nothing to loss. সবাই আমাদের নিয়ে হাসি তামাসা করছে৷ সবাই চোখে আঙ্গুল দেয়ার পূর্বে নিজের চোখে নিজেই আঙ্গুল দেয়া ভালো৷ সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকাল ২০১৭ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে৷ দলে তরুন ও সহকারী শিক্ষকের সংখ্যাই বেশি৷ সবাই কর্মঠ ও চৌখস৷ গঠনতন্ত্র নিজেদেরই বানানো৷ প্রতিষ্ঠাকাল থেকে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মিটিংসহ সম্মেলন হয়ে আসছিল৷ ২০১৮ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যারা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও মহাসচিব ছিলেন তাঁরা অদ্যাবদি প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করেননি এবং পদবিও পরিবর্তন হয়নি৷ ২০১২ সাল থেকে শিক্ষকদের এমপিও সীট দু’মাস পরপর অনলাইন দেখা যাচ্ছে৷ এখন বেতনসহ দেখা যায় তখন বেতন দেখা যেত না, কিন্তু পদবি ও বেতন কোড দেখা যেত৷ আমার জানতে চাওয়া- ২০১৮ সালে যাদেরকে সভাপতি ও মহাসচিব করা হলো তাদের এমপিও সীট অনলাইনে তখন যে পদবির ছিল এখনো তাই আছে এবং তাদের এমপিও সীট গোপন ছিল না৷ যারা আজ পাবলিক প্লেসে তাদেরকে সহকারী প্রধান শিক্ষক বলে ইয়ার্কি দিয়ে গঠনতন্ত্র মোতাবেক অযোগ্য বলছেন তারাই ভোট দিয়ে তাদেরকে সভাপতি ও মহাসচিব বানিয়েছিলেন৷ তখন তারা অযোগ্য ছিলেন না এখন অযোগ্য কেন? নাকি তাদের পদগুলো অন্যের কাছে বিক্রির বায়না নিয়েছেন? নাকি কর্মসূচী দিতে তাদের হাটু কাপে? এখন এমপিও সীট অনলাইন থেকে নিয়ে পোস্ট দেয়া হয়, তখন এমপিও সীট অন্তত সম্মেলনেই দেখিয়ে প্রার্থীতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হলো না কেন? আপনারা কি মাত্র তিন বছর পূর্বে শিক্ষক হিসেবে অনলাইনে অজ্ঞ ছিলেন? এখন যারা তাদের এমপিও সীট পাবলিক প্লেসে দিয়ে তাদের সম্মানের হানি ঘটাচ্ছেন তাদের একাধিক ব্যক্তি আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক৷ আইসিটিতে এত দক্ষ হয়েও তখন তাদের প্রার্থীতার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন না কেন এবং তাদেরকে আপনাদের বড় নেতা হিসেবে নির্বাচীত করলেন কেন? এবং পুরো তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে সে অযোগ্য লোক থেকে নিয়োগ পেয়ে নিজে যোগ্য ছিলেন কিভাবে? কিছু দিন যাবত ফেসবুকে একাধিক পোস্ট এবং গল্প দেখা যাচ্ছে সংগঠনের আর্থিক কেলেংকারির ব্যাপারে৷ এখানেও কিছু প্রশ্ন থেকে যায়৷ আর্থিক কেলেংকারি যদি হয়েই থাকে তাহলে যখন এক সাথে ছিলেন তখন লেখেননি কেন? এখন বিভক্ত হয়ে লেখছেন কেন? তাহলে কি শিক্ষকেরা ধরে নিবে তিন বছর যাবত ভাগ ভাটোয়ারার পরিমাণ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকায় মুখ খুলেননি এবং বিভক্ত হওয়ার কারণে সর্বশেষ ভাগটি দেয়নি বলে এখন মুখ খুলছেন? কারো ভুল থাকলে ধরিয়ে দেয়া ধর্মীয় ও নৈতিকতার অংশ৷ কারো ভুল অন্যত্র বলে বেড়ানো গীবত৷ অন্যের দোষ নিয়ে সর্বদা গীবত করা ও অন্যের চাকরির পদ ছোট বলে তাকে পৃথিবীর মানুষের সামনে অপমান করা কি কোনো শিক্ষকের বৈশিষ্ট্যে পড়ে? পাপ করে যতটা অপরাধের অংশীদার, প্রচার করে তো তার চেয়ে বেশি অংশীদারী হয়ে যাচ্ছেন৷ নিজে ভালো রইলেন কতটুকু? এক বিরাট মাপের নেতার সাথে কথা বলেছিলাম৷ প্রায় ৫মিনিট কথার মধ্যে অন্তত ২০-২৫ বার তিনি তার নামসহ আমিত্বের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করে চললেন৷ নিজের ঢোল মানুষ এত পেটায়? সরকারি বেতন প্রাপ্ত গ্রামের স্কুলের একজন আইসিটি শিক্ষক যার যোগ্যতা কোনো এক প্রতিষ্ঠান থেকে ছয়মাস মেয়াদী কাগুজে কম্পিউটার সনদ৷ প্রায় ৩-৪ বছর যাবত সরকারি- বেসরকারি বেতন খাচ্ছেন কিন্তু ভালো মানের একটি ক্লাশ স্ট্যান্ডার্ড কনটেন্ট বানাতে দেখা যায় নাই কিংবা বানানোর যোগ্যতা নাই৷ শিক্ষক বাতায়ন কর্তৃক অন্তত একটিও কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেন নাই৷ দেড় বছর যাবত করোনা মুহুর্তে ভালো মানের একটি লাইভ/রেকর্ডেড ক্লাশ নিতে পারেন নাই কিংবা নেবার যোগ্যতা নাই৷ কাজের সময় তাকে পাওয়া যায় না বলে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অভিযোগ আছে৷ সে-ই তার ডাবল বয়সের একজন শিক্ষকের বিরোদ্ধে প্রতি লাইনে অন্তত একটি বানান ভুল লেখা দিয়ে জুনিয়র স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলে মারাত্মক ব্যাঙ্গ করে! যে ব্যক্তিটি সকালে লিখে সে একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা, বিকালে লিখে আরেকটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি(নিজেই নেতা), সন্ধ্যায় তার মহাসচিবই তার বিরুদ্ধে সংগঠন বিরোধী অভিযোগ এনে তাকে বহিস্কার করে, পরের দিন লেগে লেগে, গেয়ে গেয়ে আরেক সংগঠনের নেতার সাথে একটু চেয়ারে বসতে চায় সেই কিংকর্তব্যবিমূঢ় ব্যক্তিটিও অন্যের বিরুদ্ধে বিষেদগার করে৷ পরিশেষে বলতে চাই, শিক্ষক সংগঠন হচ্ছে শিক্ষকদের কল্যাণের জন্য৷ যারা শিক্ষকদের কল্যাণে কর্মসূচী দিবে, কাজ করবে তাদের সাথে সকল শিক্ষকেরাই থাকবে, তবে কর্মসূচী যেন লোক দেখানো ও অন্যকে নিজের শক্তি-সামর্থ দেখাতে শোডাউনে পরিণত না হয়৷ যারা কর্মসূচী দিতে ভয় পায় তাদের পদ আকড়ে ধরাও দরকার নেই৷
লেখক – মোহাম্মদ মহসিন মিয়া

2,997 total views, 564 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lost Password?