জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০১৯ এ দেবিদ্বারে শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক প্রভাষক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন

মো. জহির রায়হান:
জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০১৯ এর কর্মসূচির আওয়তায় উপজেলা পর্যায়ে টানা ৪র্থ বারের মত শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন ওয়াহেদপুর ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার প্রভাষক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন । শিক্ষামন্ত্রণালয়ের নীতিমালার শর্তাবলীর আলোকে  দেবিদ্বার উপজেলার শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন কমিটি তাঁকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হিসাবে নির্বাচিত করেন।
গতকাল শনিবার (০২/০৮/২০১৯)  জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন কমিটি আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে উপজেলার শ্রেষ্ট শেণি শিক্ষক (মাদরাসা)  হিসেবে নির্বাচিত করে স্বীকৃতিস্বরুপ সম্মাননা সনদ ও ক্রেস্ট  প্রদান করেছেন কুমিল্লা -৪ দেবিদ্বারের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব রাজী মোঃ ফখরুল। উপজেলা প্রশাসক জনাব রবীন্দ্র চাকমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার ইপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: জয়নুল আবেদীন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জনাব, এ. কে. এম. আলী জিন্নাহ, দেবিদ্বার উপজেলা আওয়ামিলীগের সভাপতি হাজী মোঃ জয়নাল আবেদিন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট নাজমা আক্তার, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সদস্য শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
শ্রেষ্ঠ শ্রেণি শিক্ষক প্রভাষক মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন বিগত ১৮ জুন ২০১২ সালে অত্র মাদরাসায় যোগদান করে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ২০১৮ সালে ডিজিটাল কন্টেন্ট প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ে সেরা হয়ে মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী ও আইসিটি মন্ত্রীর হাত থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ ও সনদ পুরস্কার হিসেবে গ্রহণ করেন। তিনি প্রতিষ্ঠানে স্কাউটিং কার্যক্রম, গ্রীন স্কুল কর্মসূচীর আওতায় প্রতিষ্ঠানে ফুলের বাগান ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছেন। সহকর্মীদের ইনহাউজ ট্রেনিং ও শিক্ষার্থীদের আইসিটিতে দক্ষ করতে ডিজিটাল ল্যাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। তাছাড়া  তিনি ২০১৮ সালে কুমিল্লায় আইসিটি ফর ই জেলা অ্যাম্বাসেডর নির্বাচিত হয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে নিরলস কাজ করে  যাচ্ছেন।
জানা যায়, তিনি দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর গ্রামে ০১ জানুয়ারী ১৯৮৭ সালে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আলহাজ্ব আবদুল মালেক ও মাতা মরহুমা মমিনা খাতুন । তিনি ২০০১ সালে সর্বপ্রথম গ্রেডিং পদ্ধতির দাখিল পরীক্ষায় জি.পি. এ- ৪.৫০,  ২০০৩ সালে আলিম পরীক্ষায় জি.পি. এ- ৪.০০, ২০০৮ সালে বি. এ অনার্স  পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণীতে ২য় এবং ২০০৯  সালে এম. এ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করে ধারাবাকি সাফল্যের সাথে পাশ করেন।  পরে ২০০৮ সালে দেবিদ্বার রেয়াজ উদ্দিন পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশায় যোগদান করে অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সফলতার সহিত দায়িত্ব পালন করেন । এছাড়াও তিনি আইসিটি বিষয়ে অত্যন্ত দক্ষ হিসাবে সকলের নিকট সু-পরিচিত। উপজেলার শ্রেষ্ঠ মাদরাসা শিক্ষক হয়ে তিনি মহান রবের শুকরিয়া আদায় করেন এবং পরবর্তীতে যেন আরও ভাল দায়িত্ব পালন করতে পারেন সকলের নিকট দোয়া কামনা করেন। মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি কাজী শাহ আলম ও অন্যান্য সদস্যবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ উক্ত সফলতায় খুশি হয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।

2,403 total views, 3 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lost Password?