কুমিল্লা নগরীর ৪ এলাকায় কঠোর লকডাউন

সাইফুল ইসলাম ফয়সাল:(কুমিল্লা প্রতিনিধি)
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে কুমিল্লা নগরীর চারটি ওয়ার্ডে। ক’রোনা সং’ক্রমণ রো’ধে এসব ঝুঁ’কিপূর্ণ চারটি ওয়ার্ডকে (কোথাও সম্পূর্ণ, কোথাও আংশিক) লকডাউন করা হবে।লকডাউন চলবে আগামী ৩ জুলাই রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। শুক্রবার দুপুরে কুমিল্লা জে’লা প্রশা’সন এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে লকডাউনকৃত এলাকাসমূহের জন্য নির্দে’শনা জারি করে। লকডাউনকৃত এলাকাসমূহ হলো- ৩নং ওয়ার্ডের রেসকোর্স কালিয়াজুরি মৌজা, পু’লিশ লাইন-শাসনগাছা মৌজা (আংশিক) ও ছোটরা মৌজা (আংশিক);১০ নং ওয়ার্ডের ঝাউতলা (ছোটরা ও কান্দিরপাড় মৌজার অংশ), বাগিচাগাঁও (কান্দিরপাড় মৌজার অংশ); ১২ নং ওয়ার্ডের উত্তর চর্থার মৌজা ও বজ্রপুর মৌজার অংশ; ১৩নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ চর্থা। লকডাউনকৃত এলাকাসমূহে প্রবেশ এবং বের হওয়ার জন্য আলাদাভাবে ইন এবং আউট পয়েন্ট থাকবে।সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। লকডাউন সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কাউন্সিলররা স্বেচ্ছাসেবক টিম করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গত দু-তিনমাসের মতো ঢিলেঢালা লকডাউন না করে এবার কঠোর লকডাউনের দিকে হাঁটবে প্রশা’সন ও স্থানীয় রাজনীতিকরা।জে’লা প্রশা’সনের নি’র্দেশনায় বলা হয় রেডজোনকৃত এলাকায় কুমিল্লা ইপিজেডে কর্মরতরা পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে দিনে একবার প্রবেশ ও একবার বের হতে পারবে। তফসিলি ব্যাংকসমূহ বাংলাদেশ ব্যাংকের নি’র্দেশনা ও জে’লা প্রশা’সনের অনুমোদন সাপেক্ষে সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।আর্থিক লেনদেন বিষয়ক কা’র্যক্রম, যেমন-টাকা উত্তোলন ও জমাদান এটিএমের মাধ্যমে করা যাবে। চাকরিজীবীদের বাসায় থেকে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শুধুমাত্র ওষুধের দোকান খোলা থাকবে। মুদি, রেস্টুরেন্ট ও খাবার দোকানে হোম ডেলিভারি চালু থাকবে।কাঁচাবাজারে সীমিত সময়ের জন্য যাওয়া যাবে। বিনোদনকেন্দ্র, জরুরি পরিষেবার সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এবং নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের সাথে সংশ্লিষ্ট নয় এমন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ব’ন্ধ থাকবে। রেডজোনকৃত এলাকায় কোন যান চলাচল করবে না।ম’সজিদে না’মাজ আদায়ের ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে প্রতি ওয়াক্তে ই’মাম-মুয়াজ্জিন-খাদেমসহ পাঁচজন ও জুমার না’মাজে সর্বোচ্চ দশজন অংশগ্রহণ করতে পারবে। রাত আটটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত জ’রুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বের হতে পারবে না।জ’রুরি প্রয়োজনে বের হলে মাস্ক পরতে হবে। তবে কোনোপ্রকার ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা, ভ্যান ব্যবহার করা যাবে না। আ’ইনশৃঙ্খলা র’ক্ষাকারী বা’হিনী, গো’য়েন্দাসংস্থা, লকডাউন বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রের জ’রুরি কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবহন এ নি’ষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবে।নি’র্দেশনায় বলা হয়, যেহেতু কুমিল্লা জে’লায় সং’ক্রমণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে সং’ক্রমণের চ‚ড়ায় রয়েছে, তাই এসব এলাকায় মানুষের চলাচাল নি’য়ন্ত্রণ করতে না পারলে ঝুঁ’কি চরম আকার ধারণ করবে। তাই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়ের স্মারকের মাধ্যমে এসব এলাকা লকডাউন করা হলো।কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সরকার মাহমুদ জাবেদ বলেন, এ ওয়ার্ডের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভ’য়াবহ। ঈদের আগে এ ওয়ার্ডে মাত্র একজন ক’রোনা রোগী ছিল। ঈদের পর ৪৭জন। আর ১৮তারিখে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬০জনে। এ অবস্থায় শিথিলতা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই।আমরা ৫০জনের একটা ভলান্টিয়ার টিম করেছি। ওয়ার্ডের ১১টি পয়েন্টের মধ্যে একটা পয়েন্ট (বাদশাহ মিয়া বাজার) প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য খোলা রাখা হবে। বাকি দশটি পয়েন্ট সম্পূর্ণ ব’ন্ধ থাকবে। ইন এন্ড আউট পয়েন্টে পুলিশের একজন এসআই ও কনস্টেবলরা থাকবে। এ এলাকার চারশ’ পরিবারকে ২০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। আমাদের পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। কেউ খাবার সংকটে ভু’গবে না।নগরীর ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মনজুর কাদের মণি জানান, এ ওয়ার্ডে আমি দীর্ঘদিন ধরে কাউন্সিলর হিসেবে আছি। এখানকার প্রতিটা মানুষকে আমি চিনি। আমাদের স্বেচ্ছাসেবকলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের টিম মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিবে। কেউ কোনো সং’কটে পড়বে না। একটা ইন এন্ড আউট পয়েন্ট রাখা হয়েছে।রানির বাজার অভয় আশ্রমের পাশের পয়েন্ট দিয়ে মানুষ জ’রুরি কাজে বের হবে এবং প্রবেশ করবে। আমি স্ট্যাটাস দিয়েছি। সবাইকে নম্বর দেওয়া আছে। কারও অ’সুবিধা থাকলে আমাকে কল করার জন্য অ’নুরোধ করা হয়েছে।এ ব্যাপারে কথা হলে ১৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাখওয়াত হোসেন বলেন, লকডাউনের ব্যাপারে মিটিং করছি। মিটিংয়ে লকডাউন বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।কুমিল­া জে’লা প্রশা’সক মো. আবুল ফজল মীর জানান, নগরীর অন্যান্য এলাকায়ও শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। জে’লা পু’লিশ সুপার মো. সৈয়দ নুরুল ই’সলাম আ’ইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মনিটরিং করবেন। এছাড়াও পু’লিশ সুপার কার্যালয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ও করবেন।আ’ইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পু’লিশ, সেনাবা’হিনীর সাথে র‌্যাবের যৌথ সমন্বয় থাকবে।এ সময় কোন চাকরিজীবীকে জো’র করে কাজে না আনার জন্য মালিক কিংবা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হবে।

1,362 total views, 1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lost Password?