কুমিল্লার তিতাসে কোরআন অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতার স্মারক লিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিনিধি:
কুমিল্লার তিতাসে উপজেলা প্রশাসন বরাবর এক কোরআন অবমাননাকারীর বিরুদ্ধে স্থানীয় আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা স্মারকলিপি প্রদান করেন।
উপজেলার জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের দড়িকান্দি গ্রামের ভন্ডপীর সোহরাব হোসেন আতিকীর বিচারের দাবিতে
গত ১০ মে সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাম্মাৎ রাশেদা আক্তারের বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন, ইত্তেফাকুল মুসলিমিন জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন এবং তিতাস-দাউদকান্দির আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা।
উক্ত স্মারক লিপিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সোহরাব হোসেন আতিকী ইসলাম ধর্মের বিকৃতিকারী। সে নিজেকে রাসুল দাবী করে। পবিত্র কালেমার মাঝে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জায়গায় নিজের নাম সংযোজন করে ফেৎনা সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, এই ভন্ড দীর্ঘদিন যাবৎ নারী-পুরুষ এক সাথে মিলে ইবাদত-বন্দেগীর নামে অশ্লীল ও অসামাজিক কার্য কলাপে লিপ্ত রয়েছে।
কুরআন অবমাননা-ইসলাম বিরোধী ও এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সোহরাব হোসেন আতিকী সমাজে ফেৎনা সৃষ্টি করছেন বিধায়, তার নিজ গ্রাম ও আশপাশের এলাকার মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে একাধিক বার তাকে নিয়য়ে বিচার-শালিস করেন।
প্রতি বারই তিনি ক্ষমা প্রার্থী হন এবং আর এসব কাজ করবেন না বলে সকলের কাছে শেষ বারের মত ক্ষমা চান। কিন্তু কয়েক দিন পরেই আবার তিনি তার অনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করেন। এমতবস্থায় কুরআনের অপব্যাখ্যা করে মানুষকে গোমরাহীর পথে আহ্বান, ভ্রান্ত মতবাদ প্রচার-প্রচারণা ও এলাকার যুব সমাজকে তার ভুল শিক্ষার বার্তা থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন’, ইত্তেফাকুল মুসলিমিন জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন এবং তিতাস-দাউদকান্দির আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা।
স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, মো. নুরুল ইসলাম নদভী, মাওলানা নাছির উদ্দিন, মুফতি আব্দুল আল মারুফ, মাওলানা মহসিন, মাওলানা হুসাইন আহমেদ ও মাওলানা হেলাল উদ্দিন প্রমূখ।
এদিকে সোহরাব হোসেন আতিকীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যারা আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছে, তারাই কোরআনকে অবমাননা করেছে’। তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোরআনের আলোকে কথা বলি। আপনারা চাইলে, আমি প্রমাণ দেখাতে পারবো’।
অবশ্য এর কয়েকদিন পরই তিতাস উপজেলায় ইউএনও মহোদয়, উপজেলা চেয়ারম্যান ও অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে তিনি এমন কর্মকান্ড আর কখনও করবেন না-এই মর্মে মুসলেকা দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, ওইখানে তাকে আউজুবিল্লাহ, বিসমিল্লাহ ও সুরা ফাতেহা পাঠ করতে বললে, তিনি কয়েক জায়গায় ভুল করেন বলে জানান উপস্থিত মাওলানা ও সুধী মহল।

198 total views, 1 views today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Lost Password?